মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংষ্কৃতি

ভাষা ও সংস্কৃতি

 

মেলান্দহ বাসী নদী প্রাণ মানুষ। এই ত্রি-আবের (যমুনা-ব্রহ্মপুত্র-ঝিনাই) বেষ্টিত জনপদের মানুষ সহজ সরল। এ প্লাবন ভূমির মানুষ একতারার টানে বেভুল আনন্দে ভাটিয়ালীর ভাষা ছন্দ সুর নৃত্য কাব্য নাটকে বৈচিত্র চেতনায়। 

নদী পাড়ের মানুষ তাই প্লাবিত প্রকৃতির কাছ থেকে শিখেছে প্রতিরোধের প্রতিবাদী ভাষা এবং সাহসীকতা। মেলান্দহের ভাষায় নানান জেলার টান প্রভাব ওয়েছে। এখানকার ভাষা মিশ্র প্রকৃতির। ঝার কাটা, পয়লা নদী পাড়ের মানুষের ভাষায় বগুড়া অঞ্চলের টান প্রভাব রয়েছে। মেলান্দহ উপজেলার পূর্বাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র থেকে ঝিনাই নদীর উৎসমুখ জঙ্গলদি গ্রাম, পাঁচ নম্বর চর অঞ্চলের জনপদে ভাষায় পাবনা সিরাজ গঞ্জ অঞ্চলের ভাষার টান রয়েছে। মেলান্দহ উপজেলার উত্তরে দুর্মুঠ পীড় আউলিয়া শাহ্ কামালের দরগাহ নিকট বর্তীর্ জনপদের ভাষায় আসাম/অহম ভাষা শব্দের অনুপ্রবেশ এবং শেরপুর জেলার ভাষার টান মিশ্রণ। মেলান্দহ উপজেলার উত্তরে পয়লানদীর তীরবতর্তী অঞ্চল পঁচাবাউলা জনপদে গাইবান্ধার ভাষা টান মিশ্রিত। আঞ্চলীকতায় এবং পরিবেশ গত কারণে ভাষাটানের পাঁচ মিশ্রণে সাত ভাষা টানে কথা বলে মেলান্দহ বাসী।  

 

মেলান্দহ উপজেলার ভূমি কাঠামো অনুযায়ী দুর্মুঠ দরগা-স্থান,সূলতান খালী,কলাবঁধা,আমবাড়িয়া বর্ত্তমান মেলান্দহ উপজেলার ১নম্বর ইউনিয়ান)এবং মহিরামকুল ,রাজবাড়ি,ডাঙ্গারদহের চার পাশের জেগে ওঠা (বর্ত্তমানে মেলান্দহ উপজেলার ৮নম্বর ফুলকুচা ইউনিয়ান)ভূমি দহ নিম্নাঞ্চল থেকে প্রথম জেগে ওঠে।তাই জনপদ হিসেবেও প্রচীন। শিক্ষিত ,বণিক , ধনাড্য ব্যাক্তিদের বসবাস ছিল। মেলান্দহ উপকন্ঠে প্রথম জনপদ আদিপৈত। আদি অর্থাৎ পুরাতন/ প্রাচীণ/প্রথম >আদি এবং পৈৎ অর্থাৎ পুর /গ্রাম/পোত> পৈত।প্রচীন থেকেই ভারতবর্ষ শাসিত রাজাদের রাজ্য হিসেবে ,তারপর বাদশাহী আমলে শাহী রাজ্য হিসেবে,বৃটিশ শাসন আমলেইংরেজ সাশিত রাজ্য হিসেবে সাশিত হয়!ঐ সময় ১৯৩৪ সালে মিলন দহে /মেলানদহে চারণ কবি মুকুন্দ দাস প্রাচীন গ্রন্থাগার মিলন মন্দিরে।

 

বর্তমান কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে ও আঙ্গিনায় বিপ্লব মুখী চারণ গান নিয়ে বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবীদের আসরে গোপন ভাবে। গোপন ভাবে রাত্রি বাস করেছেন আদিপৈত কোন এক সম্ভ্রান্ত ঘোষ বংশীয় হিন্দু বৈঠক খানায় । ইংরেজ বাহাদুরের কর্ণ গোচর হতেই  সুদূর ময়মন সিংহ জেলার ডি.সি কুঠি থেকে ঘোড়ায় চড়ে শিকারের ওছিলায় মেলান্দহে এসে মন্দিও চত্বওে এসে  পৌঁছান।তাঁর রোশানলে মিলন মন্দির তছনছ হয়ে যায় । অকথ্য অত্যাচর চালায় বিপ্লবীদের ওপর। চাবুকের কষাঘাতে রক্তাত্ব হয় মন্দির চত্বর।

 

১৯৪৭ খ্রিঃ ১৪ আগস্ট  দেশ বিভক্ত হয়। বাংলা দু’ ভাগ। পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিম বাংলা । পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের শাসনে আর পশ্চিম বাংলা যায় ভারতের শাসনাধিনে। দ্বিজাতী তত্বের কড়াল অভিশাপ বৃটিশ ভাঙ্গল দেশ জাতী। মেলান্দহের মানুষ ধর্মপ্রাণ সহজ সরল অন্যায়ের প্রতিবাদী এবং সচেতন সংস্কৃতির। যাত্রা পালা হত। কলাবাঁধায় সুলতান খালীর সেন বাড়ীতে বৃটিশ আমল থেকেই পাকা নাট্য মঞ্চ ছিল। সৈয়দ বংশের শামসুজামান কাদা মিঞা সাহেব নায়ক ,ঠাকুর বাড়ীর সুশীল উপাধ্যায়,সেনবাড়ীর রমেন সেন, পালবাড়ীর টুনু পাল, এবং মেলান্দহ আদিপৈত ঘোষ বাড়ীর ডাঃ রবীন্দ্র নাথ ঘোষ নয়িকার  ভূমিকায় সুনামের সঙ্গে ফিমেল অভিনয়  করতেন । প্রমটার ছিলেন শচীন্দ্র নাথ ঘোষ, পূর্ণ চন্দ্র রাহা(প্রয়াত), অধির চন্দ্র পাড়(প্রয়াত), সুধির ছন্দ্র ওরফে গুনু স্বর্ণকার (প্রয়াত), রখমান মেকার (প্রয়াত) প্রমুখ। এই মঞ্চ প্রেরণায় বাংলাদেশের মুকুট বিহীন নবাব মেলান্দহ মাটিরই সন্তান চিত্র অভিনেতা সরলীয়া মিয়াবাড়ী-র আনোয়ার হোসেইন। নৃত্য শিল্পী শর্বরী এবং কল্পনার এই মঞ্চ প্রেরণায় বাংলাদেশ চিত্র জগতে নৃত্য শিল্পী হিসেবে অনেক সুনামে নন্দিত হয়েছেন।বৃটিশশাসন কালে যারা অভিনয় করেছেন তাঁদেনাম ডাঃ জিতেন্দ্র নাথ ঘোষ ননীবাবু (প্রয়াত) , আহম্মদ হোসেইন তালুকদার (প্রয়াত), রামপ্রসাদ কর (প্রয়াত),সুধীর চন্দ্র ওরফে গুনু স্বর্ণকার (প্রয়াত),জগদীশ চন্দ্র নাহা (প্রয়াত),কুমুদ চন্দ্র বন্দ (প্রয়াত),রমেন্দ্র নাথ পাল (প্রয়াত), পাকিস্তান শাসণ আমলে বিনোদ বিহারী দাস (প্রয়াত), মহম্মদ আলী ডাক্তার(প্রয়াত), খালেক ডাক্তার (প্রয়াত), মধুসুদন নাহা (প্রয়াত), শচীন্দ (প্রয়াত), কার্ত্তিক চন্দ্র বন্দ (প্রয়াত)সুধীর চন্দ্র পাড় (প্রয়াত), অধির চন্দ্র পাড় (প্রয়াত), নাহা,কুমুদ চন্দ্র বন্দে(প্রয়াত), বিদ্যুৎদেবনাথ, প্রদ্যুৎ দেবনাথ, গোপাল নাহা, ইন্দভূষণ বন্দ, বাবলু তালুকদার (প্রয়াত) প্রমুখ।

১৯৭১ সাল। পূর্ব বঙ্গ/পূর্ব বাংলার প্রতিবাদী মানুষ স্বাতন্ত্রতায় জেগে উঠলো। মেলান্দহতে শহীদ হল আদিপৈত গ্রামের ডাঃ গোপাল চন্দ্র দেব, বারই পাড়ার গৌর গোপাল কর, সাহাজাত পুরের রাম চন্দ্র সাহা, দীঘল বাড়ীর বারেক, সাহাজাত পুরের বাচ্চু ,আদিপৈত গ্রামের সমর আরও অনেক মেলান্দহের সূর্য সন্তান। মেলান্দহের বদ্ধ ভূমি আজো প্রস্ত্ততি পরি কল্পনায় অসম্পূর্ণ:নেমপ্লেট বিহীন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনা পিলার হয়ে রয়েছে মেলান্দহ কোর্ট প্রাঙ্গনে।

 

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর  আশির দশকে টুপকার চর এবং জালাল পুরের তরুণ সমাজ নাট্যকার আসাদুল্লাহ ফারাজীর নেতৃত্বে আবু হাণিফ মাস্টার (প্রয়াত), আব্দুল লতিফ খাঁন (প্রয়াত) রেজাউলকরিম লেবু, মহসীন উল্লাহ বাবুল ফারাজী, আবদুল্লা মোল্লা, আবুল মন্সুর খান দুলাল, লিচু মাস্টার , মোশারলফ হোসেইন,সাইদুর রহমান ,সুমী আক্তার  গ্রাম থিয়েটার নাট্য চর্চা এবং আন্দোলনের সঙ্গে সমপৃক্ত হয়। আসাদুল্লাহ্ -র লেখা নাটক মঞ্চস্থ হতে  থাকে। উপজেলার প্রথম নির্বহী কর্মকর্ত্তা জ্বনাব বজলুর রহমান ভূঁইয়া সাহেব এর উদ্যোগে শিল্প কলা ভবন নির্মান করেন বর্তমান পৌর ভবন চত্বরে। এখানে একটি মুক্ত মঞ্চও নির্মাণ করেছিলেন। নাট্যকার ড. সেলীম আলদীন-এর ৫০তম জন্ম বার্ষিকী উৎসবে তিনি স্বয়ং এবং নাট্যমঞ্চ নির্দেশক ও নাট্যকার নাসির উদ্দিন ইফসুফ, নট্যাভিনেতা পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ এ মঞ্চে অনুষ্ঠান করে গেছেন। মেলান্দহের উত্তরণ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন-এর একে.এম.এহাছনুল মঞ্জু, ধ্রুব জ্যোতি ঘোষ মুকুল, মহববৎ আলী ফকীর এর নেতৃত্বে সঙ্গীত, বাদ্য.নৃত্যে ,সাহিত্য, সামাজিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেন।

মেলান্দহের সংগীত শিল্পীদের মধ্যে নামতালিকা ধারাবাহিকতায়: আদিপৈতের রবীন্দ্র নাথ ঘোষ, দেবেন্দ্র নাথ দেব, দুর্মুঠ মিঞা বাড়ীর কাদা মিঞা সাহেব, নয়ানগরের প্রয়াত সুধীর চন্দ্র অধিকারী (গুনু সোনার)এবং প্রয়াত ফিটকালু গোয়াল, কলাবাঁধার রমেন পাল(প্রয়াত),গোন্দিপুরের প্রদ্যুৎ দেবনাথ, বিদ্যুৎ দেবনাথ, ঢালুয়বিাড়ীর নিধিরাম বিশ্বাস, জীবন দাস, হাজরাবাড়ীর অব্দুল মান্নান, নয়ানগরের অধির অধিকারী, নিখিল অধিকারী,তাপশ অধিকারী, সুবোধ অধিকারী, রাজীব , সাহাজাতপুরের হজরত আলী,দুর্মুঠের মোঃ আবু তালেব মিঞা,

মহিরামকুলের সৈয়দ-উ জামান শান্ত,বিপ্লব, আনোয়ার, তাপশ,আদিপৈতের,মোঃরফিক,আমিনুল মোমেনিন মানিক (দিগন্ত টি.ভি-র চিপ রিপোর্টার), মেলান্দহের বাঘাডোবার মুক্তিযোদ্ধা বীর কবিয়াল কুরবাণ আলী (প্রয়াত),নলের চরের চাঁন বয়াতী -র নাম উল্লেখ যোগ্য।

 

আলোক চিত্র বিরল সংগ্রহ সংস্কৃতি:

মেলান্দহ উপজেলার বিশিষ্ট প্রয়াত ব্যক্তিবর্গের আলোকচিত্র সংরক্ষণ ও সংগ্রহ শালা দর্পণ-য়ে রয়েছে বিরল সংগ্রহ ।

ছবি


সংযুক্তি